কৃষিতে টিস্যু কালচার পদ্ধতির ব্যবহার

টিস্যু কালচার হলো এমন একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি, যেখানে উদ্ভিদের কোষ বা টিস্যু থেকে নতুন অনুচারা তৈরি করা হয়।

ব্যবহার:

মাতৃগাছের গুনাগুন সম্পন অনুচারা উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

অল্প সময়ে অধিক পরিমান চারা উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

রোগমুক্ত এবং উচ্চফলনশীল চারা উৎপাদন এই প্রযুক্তির অন্যতম ব্যবহার।

বিরল প্রজাতির গাছপালা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বানিজ্যিকভাবে আলু, কলা, জারবেরা ইত্যাদি গাছের অনুচারা উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উপকারিতা:

সময় কম লাগে।

অনুচারার সঠিক গুনাগুন ঠিক থাকে

রোগমুক্ত চারা তৈরি করা যায়।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ।

টিস্যুকালচার প্রযুক্তি ধাপসমূহ:

১। মাতৃগাছ থেকে এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: টিস্যু কালচারের জন্য সুস্থ, নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য মন্ডিত উদ্ভিদ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত টিস্যুকে এক্সপ্লান্ট বলে।

২। কালচার মিডিয়াম বা আবাদ মাধ্যম তৈরি: বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান, ভিটামিন, সুকরোজ (২-৪%), ফাইটোহরমোন ব্যবহার করে কালচার মিডিয়া তৈরী করা হয়।

৩। জীবাণুমুক্তকরণ বা নির্জীবকরণ: পাত্রটিকে নির্জীবকরণ যন্ত্র (autoclave) দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। মিডিয়ামকে অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপ (১২১° সে.), চাপ (১৫ পাউন্ড) ও সময় (২০-৩০মিনিট) রাখা হয়।

৪। মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থাপন: এক্সপ্লান্টকে নির্জীবকরণ করে (সাথে হাত, চিমটা ইত্যাকে অ্যালকোহল দিয়ে নির্জীব করতে হয়) সম্পূর্ণ নির্জীব অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়। ল্যামিনার এয়ার ফ্লো যন্ত্রটি ব্যবহার করে এই কাজটি সমপন্ন করা হয়।

৫। ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধিঃ পাত্রটিকে একটি কালচার র‍্যাকে ৩০০০-৫০০০ লাক্স এবং তাপমাত্রা (২০°২° সে) ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা (৭০-৭৫%) নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়। কয়েকদিন পর টিস্যুটি বার বার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মন্ডে পরিণত হয়। এই অবয়বহীন অবিন্যস্ত টিস্যু গুচ্ছ সৃষ্টি হওয়াকে ক্যালাস বলে। ক্যালাস থেকে এক সময় অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।

৬। শিকড় উৎপাদন এবং অনুচারা তৈরীঃ ক্যালাস থেকে উৎপন্ন মুকুল (Shoot) গুলিকে শিকড় উৎপাদন মিডিয়ার স্থাপন করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে শিকড় এবং কান্ড-পাতা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ অনুচারা (Plantlet) তৈরী হয়।

৭। চারা টবে স্থান্তর: উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে পূর্ণাঙ্গ অনুচারা কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।

৮। প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠ পর্যায়ে স্থান্তর: টবসহ চারাগাছকে কিছুটা আর্দ্র পরিবেশে রাখা হয়, তবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। পুর্ণাঙ্গ চারাগাছগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।